ফুলহারের বন্যা আর ভাঙনে বিপর্যস্ত রতুয়া

ফুলহারের বন্যা আর ভাঙনে বিপর্যস্ত রতুয়া: সরকার দেখছে না, বলছেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান 

 

 একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে প্লাবন, ফুলহার নদীর সাঁড়াশি আক্রমণে বিপর্যস্ত মালদার রতুয়া। গত তিন দিনে তলিয়ে গেছে দেড়শোরও বেশি বাড়ি। জলবন্দি হয়ে রয়েছে প্রায় দুশো পরিবার। রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙছে নদীর পাড়। ভাঙ্গনের সঙ্গেই জল ঢুকছে একাধিক গ্রামে। নদীর রাক্ষুসে রূপে কার্যত দিশেহারা মহানন্দাটোলার নদী তীরবর্তী পরিবার গুলি। ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচেই চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের দাবি রাজ্য সরকারও এই সমস্ত অসহায় মানুষের পাশে নেই। এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ ব্লক আধিকারিকও। 

 মহানন্দাটোলার বঙ্কুটোলা গ্রামে চলছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। ইতিমধ্যে গ্রামের প্রায় দেড়শোটি বাড়ি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল প্রধান। অন্যদিকে ফুলহারের জল ঢুকে প্লাবিত বাজিতপুর, বদনটোলা, মেঘুটোলা গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ টি পরিবার। বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের নীচে। মাথার উপর ছাদ নেই। তার উপর গ্রামে দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সমস্যা। গত প্রায় ৭ দিন ধরে টানা ভাঙ্গন চলছে। সঙ্গে প্লাবন। দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম গিয়েছে গ্রামবাসীদের। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জলস্তর। গৃহহীন পরিবারগুলি উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে কোনও ত্রাণ সামগ্রী এখনও মেলেনি বলে তাঁদের অভিযোগ।

 মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কিরণ মাঝি বলেন, “ইতিমধ্যে নদীর জলে তলিয়ে গিয়েছে বঙ্কুটোলা গ্রামের প্রায় ১৫০ টি বাড়ি। দুশোটি পরিবার জলবন্দি হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।” 

 যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, বিষয়টির ওপর নজর রাখা হয়েছে। জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, “ফুলহারের জলস্তর বেড়েছে। আমরা সতর্ক আছি। জেলার চর এলাকাগুলিতে নজরদারির পাশাপাশি প্রচারও চলছে। আমরা সবাইকে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি। বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে সজাগ করা হয়েছে। সব রকম ভাবে আমরা প্রস্তুত।” 

 

প্রতিদিন মালদার টাটকা নিউজ হোয়াটস্ অ্যাপে পেতে *ক্লিক করুন* 

Share on Whatsapp
Previous Post Next Post