শেষদিনের
কাউন্টডাউন কি তবে শুরুই হয়ে গেল? সুজলা সুফলা ভারতবর্ষ কি কিছু বছরের
মধ্যে ঊষর মরুভূমি হিসাবে পরিচিত হতে চলেছে? অন্তত নীতি আয়োগের বক্তব্যে
সেই আতঙ্কই এখন প্রতিটি ভারতীয়র মনে৷ উন্নত বিজ্ঞান এবং মানুষের জ্ঞানহীনতা
এই দেশকে ধীরে ধীরে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যু উপত্যকার দিকে৷ অথচ এখনও মানুষ
লজ্জিত নয়৷ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে শেষের দিনটাকে এগিয়ে আনার জন্য
যেন এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সবদিকে৷ আমাদের এই মালদাও তার ব্যতিক্রম নয়৷
জলশূন্য
চেন্নাই৷ সেই শহরের ভূগর্ভে সঞ্চিত নেই আর একফোঁটা জল৷ ১০.৬৩৯২ মিলিয়ন
শহরবাসী এখন বেঁচে প্রতিবেশী কেরালার সৌজন্যে৷ সেখানকার নাগরিকদের কাছে
মেরিনা বিচের স্বর্ণালি তট এখন সত্যিই ঝলসানো রুটি৷ সেই তটের একদিকে যখন
জলের গর্জন, অন্যদিকে তখন মরুভূমির জলশূন্যতা৷ মানুষের কাছে টাকাপয়সা,
হিরে-জহরত, সব আছে৷ শুধু জীবনটাই নেই৷ নীতি আয়োগ জানিয়ে দিয়েছে, এক বছরের
মধ্যে দেশের আরও ২১টি শহর জলশূন্য হয়ে পড়বে৷ তার মধ্যে রয়েছে বেঙ্গালুরুর
মতো বিজ্ঞানের শহরও৷
জলমাফিয়াদের জল লুটের ময়নাতদন্ত
চেন্নাইয়ের তুলনায় অনেক ছোটো শহর মালদা৷জনসংখ্যাও অনেক কম৷ কিন্তু ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত জলের পরিস্থিতিটা একই রকম৷ সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ৷ তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিমধ্যে মালদা শহরের বেশ কিছু জায়গায় প্রবল জল সংকট দেখা দিয়েছে৷ শহরের ভূগর্ভস্থ জলের স্তর প্রতিনিয়ত নীচে নেমে যাচ্ছে৷ এই সংকটমোচনের রাস্তা মহানন্দা নদীর জল ব্যবহার করা৷ সেই চেষ্টা তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন৷ আরও একটি বড়ো সমস্যা, শহরের অলিগলিতে তৈরি হওয়া ফ্ল্যাটবাড়িগুলি কোনো আইন না মেনে বেহিসাবিভাবে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নিচ্ছে৷ অথচ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্ল্যাটবাড়িকেও পুরসভা থেকে সরবরাহ করা জল সঞ্চয় করে রাখতে হবে৷ তাঁরা ফ্ল্যাটবাড়িগুলিতে অভিযান শুরু করছেন৷ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন বন্ধ করতেই হবে৷ তবে বৃষ্টির জল পুনর্ব্যবহারের কোনো প্রকল্প এখনও তাঁরা নেননি৷ বৃষ্টিও এখন আর আগের মতো হয় না৷ কারণ, গাছ বৃষ্টি বহন করে নিয়ে আসে৷ অথচ গাছপালা ধ্বংস করে মানুষই প্রকৃতিকে নষ্ট করে চলছে৷ ভরাট করে ফেলা হচ্ছে জলাভূমিও৷ তাই শহর জুড়ে গাছ লাগানোর পাশাপাশি জলাভূমি আর যেন ভরাট না হয় তার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা৷
শহরবাসীকে বাঁচাতে পুরপ্রধানের চেষ্টা চলুক৷ বিধায়ক হিসাবেও তিনি মানুষকে বাঁচানোর কাজ করে যান৷ সেটাই চায় সবাই৷ কিন্তু রাজনীতির কারবারিদের মানুষ এখন আর কতটা ভরসা করে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেই৷ একথা আর অজানা নয়, গোটা মালদা শহরকে নিয়ন্ত্রণ করছে জনাকয়েক ঠিকাদার৷ সেই ঠিকাদারদের পায়ে কার্যত হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আমলা ও পুলিশের একাংশও৷ শুধু সেই কারণেই দিনের আলোয় কেটে ফেলা হচ্ছে প্রাচীন গাছ৷ ভরাট করে ফেলা হচ্ছে একাধিক জলাভূমি৷ যাদের সেসব দেখার কথা, তাদের চোখে তখন কালো চশমা৷ লক্ষ্য নিশ্চয়ই টু পাইস পকেটে ঢোকানো৷ তাতে সন্তানদের দুধেভাতে রাখা যাবে৷ পড়শিদের ঈর্ষা অনেকটাই বাড়ানো যাবে৷ কিন্তু তাঁরাও কি কখনও ভেবেছেন, জল না পেলে নিজেদের সন্তানদের কতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন? এবার কিন্তু তাঁদেরও ভাবার সময় এসেছে৷
Share on Whatsapp
