জারবন্দি অবস্থায় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ-সহ তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করল মালদহ ক্রাইম মনিটরিং সেল। শুক্রবার রাতে শহরের ঝলঝলিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হোটেল থেকে ওই তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে জারবন্দি অবস্থায় এক কিলো ওজনের সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে জারবন্দি অবস্থায় সাপের তরল বিষ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ রীতিমতো প্রক্রিয়াকরণ করে ফেলা হয়েছে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্তারা। ধৃতদের ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। ধৃত রফিক আলি এবং মাসুদ শেখের বাড়ি কালিয়াচকের বামনটোলা গ্রামে। আশিক মণ্ডল কালিয়াচকের আকন্দবাড়িয়ার বাসিন্দা।
জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, সাপের বিষ সহ কাঁচের জারের ওজন প্রায় এক কিলো। উদ্ধার হওয়া বিষের বর্তমান বাজার দর এক কোটি টাকা। ধৃতরা কোথা থেকে এই বিষ সংগ্রহ করেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এর আগেও কাঁচের জারবন্দি সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু তা তরল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এই প্রথম সাপের বিষ পুরোপুরি প্রক্রিয়াকরণ করে চিনির দানার মতো তৈরি করে ফেলেছে পাচারকারীরা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে কোনও ল্যাবরেটরি থেকেই এই কাজ করা হয়েছে। কালিয়াচকের কোথাও এই ধরনের ল্যাব রয়েছে কি না, সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখছি। মাদক তৈরির জন্যই সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে কোথায় এগুলি পাচার করা হত এই মুহূর্তে তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ক্রাইম মনিটরিং সেলের এক মহিলা-সহ ছয় আধিকারিক ক্রেতা সেজে ওই হোটেলে অভিযান চালান। তখনই হাতেনাতে সাপের বিষ পাচার চক্রের এই তিনজনকে গ্রেফতার হয়েছে। তবে এরা এই পাচার চক্রের পান্ডা না ক্যারিয়ার তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কী ধরনের সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়েছে, তাও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ২০১৭ সালের পর ফের এই বিপুল অর্থমূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার হল মালদহে।
