চিকিত্সার গাফিলতিতে এক মাসের শিশু কন্যার মৃত্যুর অভিযোগ তুলে মালদা শহরের সুনামধন্য এক বেসরকারী নার্সিংহোম দিশারীতে উত্তেজনা। ৩০ অক্টোবর বুধবার মালদা শহরের একটি বেসরকারী নার্সিংহোম দিশারীতে ১ মাসের শিশুকন্যা মাহেরা রহমানকে সন্ধ্যার সময় মালদা যদুপুর কমলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বাবা মাসিদুর রহমান মালদা শহরের চিকিত্সক মনোজ ঝাঁর পরামর্শে ভর্তি করেন। শিশুটি যখন এক মাস আগে জন্মগ্রহণ করেছিল তখন তার পায়ে টিকা দেওয়া হয়ে ছিল।
সেই
টিকা ফুলে পেকে-যাওয়া তে সমস্যা হচ্ছিল মাহেরার। শহরের এক শল্যচিকিত্সক
মনোজ ঝাঁ কাছে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করার
পরামর্শদেন।
বুধবার রাতেই পায়ে ছোট একটা অস্ত্রোপচার করে পুঁজ বেরকরে
দেওয়া হয়। বাবা মাসিদুর রহমানে বক্তব্য তার বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। রাত
১০টার সময় বাচ্চার মা তাকে দুধ পর্যন্ত খাইয়েছে। এর পর বাচ্চার মাকে
বাচ্চার কাছে থাকতে দেয়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। বাচ্চাকে একা নার্সিংহোমে
রেখে বাড়ি ফিরে যান সকলে। গভীর রাতে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ফোন
করে মাসিদুর বাবুকে বলা হয় তার মেয়ে মারা গিয়েছে।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নার্সিংহোমে ছুটে আসেন পরিবারের লোকেরা। জানতে চান কি ভাবে মৃত্যু হলো মেয়ের। কিন্তু নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। চাওয়া হয় সিসি টিভির ফুটেজ। কিন্তু দেখা যায় রাত ১০টার পর থেকে সমস্ত সিসি টিভির ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে। কেন সিসি টিভির ফুটেজ মুছে দেওয়া হলো তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তজনা ছড়ায় দিশারী নার্সিং হোম চত্বর। খবর পেয়ে মালদা ইংরেজ বাজার থানা থেকে পুলিশ ছুটে আসে। উত্তজিত কিছু মানুষ নার্সিংহোম ভাঙ্গচুর করে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এই দাবীতে মকদুমপুরে নার্সিংহোমের সামনে রাস্তা অবরোধ করা হয়।শিশু মৃত্যু নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের তরফ থেকে খবর লেখা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।